Header Ads

Header ADS

এ ক্যানাইন বিহেইবিয়ার ইন মাই লাইফ

ইসলামী ব্যাংক

A Canine Behaviour in my life

মুহাম্মাদ দিদারুল আলম

-------------------------------------------------

শাখায় নতুন ম্যানেজার এসেছেন সপ্তাহখানেক লো তিনি এখনো অফিসের সবার সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হয়ে উঠতে পারেননি এরই মধ্যে একদিন বিকেল তিনটার দিকে ম্যানেজার অপারেশন্স আমাকে ডেকে বললেন, ‘আপনাকে ম্যানেজার স্যার একটু ডেকেছেন

জিজ্ঞেস করলাম, ‘এখনই যাব, না কিছুক্ষণ পরে গেলে চলবে?’

ম্যানেজার অপারেশন্স বললেন, ‘স্যার যেহেতু ডেকেছেন এখনই যান

ভাবলাম, ম্যানেজার স্যার যখন ডেকেছেন সবকাজ ফেলে সঙ্গেসঙ্গে যাওয়াটাই শিষ্ঠাচার, অধিকন্তু নতুন ম্যানেজার  দেরী করলে মাইন্ডও করতে পারেন তাই ডেস্কের সব কাজ যেভাবে আছে সেভাবে রেখে মুহূর্তের মধ্যেই শশগতিতে ছুটলাম দোতলায় ম্যানেজার মহোদয়ের চেম্বারের দিকে মনেমনে খুশি হলাম নতুন ম্যানেজার স্যারের সাথে আজ পরিচিত হতে পারবো। চেম্বারের দরজায় গিয়ে দেখি ভেতরে ম্যানেজার স্যার মুঠো ফোনে দীর্ঘক্ষণ ধরে কার সাথে যেন গুরুত্বপূর্ণ আলাপে ব্যস্ত স্যারের মোড আলাপের ধরণ থেকে মনে হয়েছিল খুবই জরুরি ফোনালাপ হয়তো। আমাদের বিনিয়োগ ইনচার্জসহ আরো দুতিনজন ভদ্রলোক/গ্রাহক চেম্বারে তীর্থের কাকের মত ম্যানেজারের দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন কবে তিনি মোবাইল রাখেন আমি চেম্বারের দরজায় গিয়ে অবস্থা দেখে একটু থতমত খেয়ে গেলাম ম্যানেজার স্যার আমাকে দেখেছেন আমি সুবোধ বালকের মত চেম্বারে ঢুকে দরজার পাশেই নিরবে দাঁড়িয়ে থাকলাম বুঝতে পারছিলাম না অপেক্ষা করব না চলে যাব স্যার আমাকে ডেকেছেন আবার চেম্বারের ভেতরে ঢোকেও গেছি এখন যদি স্যারের কোন ইশারাইঙ্গিত ছাড়া নিজে নিজেই চলে যাই বেয়াদবি হতে পারে নতুন স্যারের বিনা অনুমতিতে সামনে গিয়ে সোফায় বসারও সাহস পাচ্ছিলাম না এদিকে স্যারের ফোনালাপও শেষ হচ্ছিল না লক্ষ্য করলাম তিনি ফোনালাপের ফাঁকেফাঁকে একাধিকবার আমার দিকে তাকালেন কিন্তু কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছেন না ভাবছিলাম স্যার মোবাইলে কথা শেষ করে হয়তো ভদ্রজনোচিতভাবে বলবেন আপনাকে ডেকেছিলাম কিন্তু এখন ব্যস্ত আছি পরে আসেনকিন্তু  বস কিছু না বলা পর্যন্ত আমাকেতো অপেক্ষা করতেই হবে

অনেকক্ষণ পর স্যার ফোন রাখলেন আমি ধীরপদে এগিয়ে গিয়ে বিনীতস্বরে বললাম, ‘স্যার, আমি দিদারুল আলম, রেমিডিয়েশন ডেস্কে কাজ করি, আপনি আমাকে ডেকেছেন তাই এলাম

কথা শুনে স্যার মুহূর্তের মধ্যে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে চেয়ার হতে দাঁড়িয়ে গিয়ে অতি কর্কশকন্ঠে আমাকে শাসাতে লাগলেন আর দুহাতে ছোট বাচ্চা দোলানের মত একটা বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করতে করতে বললেন, ‘আমি ডেকেছি তাই বলে কি এভাবে এভাবে এভাবে আসবেন? এখন আসলেন কেন? চেম্বারে এত লোক, আমার এত ব্যস্ততা দেখছেন না

এরপর তিনি অত্যন্ত রূঢ় আওয়াজে ধমক দিয়ে বললেন, ‘যান, এখন চলে যান

আমি এহেন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাকরুদ্ধ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নীচ হতে মাটি সরে যাচ্ছিল মুহূর্তের মধ্যেই আবার তিনি মুখ ভেংচিয়ে রক্তচক্ষু বিস্ফারিত করে ব্যঘ্র ন্যয় গর্জন করে হুংকার দিলেন, ‘কী হলো? যাচ্ছেন না কেন? আপনাকে এখনই এখান থেকে চলে যেতে বললাম আর আপনি এখনো যাচ্ছেন না কেন?

এমন অবমাননাকর ও অসম্মানজনক মুহূর্ত আমার জীবনে ইতোপূর্বে আর কোনদিন আসেনি তাই অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে বিস্ময়বিমূঢ় আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে নেংটি কুকুরের মত লেজ গুটিয়ে মাথা নীচু করে বিনাবাক্যে ক্ষীপ্রপদে চলে এলাম আসার সময় লক্ষ্য করলাম চেম্বারে উপস্থিত ভদ্রলোকেরা অবাক বিস্ময়ে ম্যানেজারের খামাকা রাগত চেহারার দিকে তাকিয়ে আছেন

কী অপরাধ করেছিলাম সেদিন আমি কোথায় মানবিক মর্যাদা, কোথায় সৌজন্যবোধ; ভদ্রতা বা কার্টেসি বলতে আমাদের সমাজে আদৌ কি কিছু আছে? আমি তো আর খুনখারাবির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ছিলাম না তাহলে পাহাড়ী জংলি নরখাদক আর সুশীল মানুষের আচরনে পার্থক্য কোথায়? তিনি নতুন ম্যানেজার  যার সাথে এখনো আমার ব্যক্তিগত পরিচয়টুকু হয়নি সেদিন আমি পরিচয় না দিলে তিনি আমাকে গ্রাহকই ভাবতেন ব্যাংকের মত একটি পরিশীলিত সুস্থশালীন পরিবেশে একজন উচ্চশিক্ষিত অফিসারের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই ম্যানেজারের এ কেমন পশুসূলভ আচরণ! তাহলে কি বসেরা অধীনস্তদের মনুষ্যত্ব স্বীকার করেন না?

আমার সেই বয়োবৃদ্ধ বস হলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ককসবাজার শাখার সাবেক ম্যানেজার শেখ ওমর যিনি বর্তমানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।

আমার 44 বছরের হায়াতে জিন্দেগীতে, 17বছরের ব্যাংকিং চাকুরীতে এরকম পাশবিক আচরনের অভিজ্ঞতার দ্বিতীয় নজির নেই

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.