Header Ads

Header ADS

ইসলামি সুদের ফেরিওয়ালা

টাকা, সুদ, ব্যাংক
ইসলামি সুদের ফেরিওয়ালা

-মুহাম্মদ দিদারুল আলম

###############

বাঘ আর শিয়ালের কিচ্ছা শোনতে কে না ভালোবাসে একদা উভয়ের মধ্যে ছিল আন্তরিক সম্পর্ক  ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে শিয়াল একদিন ফন্দি করে বাঘের ছোটছোট ছয়টি বাচ্চা সযত্নে লালনপালন করে বড় করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ গুহায় নিয়ে গেল শিয়াল বন্ধুর এধরনের আন্তরিকতায় বাঘও বেজায় খুশি শিয়াল নিজ গুহায় বসে কয়েকদিন পরপর মজা করে একএকটি বাচ্চা খেয়ে ফেলতে থাকে মা বাঘিনী মাঝেমাঝে আদরের বাচ্চাগুলো কেমন আছে তা এক নজর দেখতে যেতো আর বুদ্ধিমান শিয়াল বিশালকায় বাঘকে গুহার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে  ভেতর থেকে এক একটা বাচ্চা বের করে  এনে দেখাতো একটি বাচ্চা বের করে দেখিয়ে আবার ভেতরে গিয়ে ঐ একই বাচ্চা বের করে আনতো এভাবে একই বাচ্চাকে বারবার বের করে গুনেগুনে ছয়টি বাচ্চা মাকে বুঝিয়ে দিতো পাঁচটি বাচ্চা খেয়ে ফেলার পর শেষবারে যখন মাত্র একটি বাচ্চাই বাকী ছিল, শিয়াল সেটিকে ছয়বার বের করে মাকে দেখাল

টুপি পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক এলেন একটি ইসলামি ব্যাংকে সুদবিহীন ঋণ পাবার আশায় তিনি ব্যাংকের লোন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে তাদের ইসলামি ঋণ (বিনিয়োগ) পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলেন বিনিয়োগ প্রধান তাকে যথাসম্ভব তাদের সুদবিহীন ইসলামি ব্যাংকিং সম্পর্কে সংক্ষেপে বুঝালেন কিন্তু যুবকটি মনে হয় তাঁর কথার কিছুই বুঝতে পারেননি অথবা বুঝলেও তাতে সন্তুষ্ঠ হতে পারেননি যুবকটি বারবার তার একই কথা বলে যাচ্ছেন যে, একই ব্যবস্থায় একই হারে একই নিয়মে একই লেনদেনে এক ব্যাংকে গেলে সুদ হয় আর অন্য ব্যাংকেরটা সুদবিহীন ইসলামি হয় কিভাবে? বিনিয়োগ প্রধান তাকে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে আশ্বস্ত করলেন যে, আপাতত একই মনে হলেও আমরা ইসলাম অনুযায়ী ব্যাংকিং করি তাই আমাদেরটা সুদ নয় কারণ আমাদের রয়েছে ইসলামি শরিআহ বোর্ড শরিআহ অডিট যারা ব্যাংকের বিনিয়োগসহ সকল কার্যক্রম ইসলামি শরিআহমত হচ্ছে কিনা নিয়মিত দেখভাল করে থাকেন এছাড়া সরকারিভাবেও ইসলামি ব্যাংকসমূহকে ইসলামি শরিআহ প্রতিপালনে বাধ্য করা হয় অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোকে শরীআহবিধান অনুযায়ী পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে প্রয়োজনীয় আইন, প্রবিধি শরিআহ গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে এবং ব্যাংকগুলো যেন আবশ্যিকভাবে ইসলামি শরিআহ নীতিমালা মেনে চলে সেজন্য সেন্ট্রাল শরীআহ বোর্ডও গঠন করেছে যারা সার্বক্ষণিক ব্যাংকগুলোর শরিআহ পরিপালন পর্যবেক্ষণ তদারকি করে থাকেন

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামি ব্যাংকসমূহের ইসলামি শরিআহ তদারকির কথা শোনে যুবকটি প্রশ্ন করলেন, ’’তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক কি ইসলামি শরিআহ মোতাবেক পরিচালিত হয়? যে ব্যাংক নিজে ইসলামি শরিআহ মেনে চলে না সে ব্যাংক অন্য ব্যাংকের শরিআহ পরিপালন কিভাবে তদারকি করবে?’’

যুবকটির এমন প্রশ্ন শোনে ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ আর কথা বাড়ালেন না এরপর যুবকটি বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন- যে লোক নিজে ইসলামবিরোধী, ইসলামি বিধিবিধানের ধারধারে না, এমনকি ইসলাম সহ্যই করতে পারে না সে কিনা অন্যের ইসলামের পাহারাদার জিম্মাদার (!)

যুবকটির শেষ মন্তব্য ছিল, আসলে ইসলামি ব্যাংক মানে ইসলামি সুদের ফেরিওয়ালা

 

(ককসবাজার: 01/04/2023 ইং)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্যাংকের অতিরিক্ত টাকা সুদের অন্তর্ভুক্ত!

Allamah Mufti shamsuddin zia (مفتى شمس الدين ضياء) 

ব্যাংক থেকে যে নামেই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হোক না কেন, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। ইন্টারেস্ট বলুক বা মুনাফা- সবই হল সুদ। তাই ব্যাংকে মূল টাকার অতিরিক্ত কোনো মুনাফা ভোগ করা জায়েয নেই। ইসলামি সাইনবোর্ড সাটানো অনেক ব্যাংকে শরয়ি বোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ করেছি আমি। চেষ্টা করেছি ব্যাংক-ব্যবস্থাকে ইসলামি করার। আফসোস ও হতাশা নিয়ে বলতে হয়, তারা আমাদেরকে বৈঠকে ইসলামি পদ্ধতি গ্রহণ করার কথা বলে। কিন্তু তলেতলে নিজেদের এজেন্ডা ও নীতিমালায় লেনদেন করে। মুদারাবা ও মুশারাকার কথা বললেও দিনশেষে সুদ ও অনৈসলামিক লেনদেন থেকে তারা মুক্ত থাকে না।

আমাদের বাতলানো ইসলামি পদ্ধতিতে যেহেতু ব্যাংকগুলো চলে না বা চালাতে পারে না, সুতরাং আমি উক্ত দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। একেএকে সব ব্যাংকের সদস্যপদ ত্যাগ করেছি। কারণ, শরয়ি বোর্ড ও ইসলামি নামের চটকদার শিরোনাম দেখে জাতি ধোঁকায় পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। না জেনে সুদ ভক্ষণ করে যাচ্ছে তারা। জেনারেল ব্যাংক বলেন বা কথিত ইসলামি ব্যাংক- তা থেকে মূল টাকার বাড়তি লভ্যাংশ নেওয়া জায়েয নেই। যে নামেই তারা লভ্যাংশ প্রদান করুক না কেন, তা সুদের আশংকা থেকে মুক্ত নয়।

ইহুদিরা ব্যাংক পদ্ধতি চালু করে সমাজের জমিদার, শিক্ষিত ও বড়লোকদেরকে সুদখোরে পরিণত করেছে। কিন্তু এতে তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা চিন্তা করেছে, মুসলমানদের মূলকেই বিনাশ করে দিতে হবে। তাদের মায়েদেরকে নষ্টাভ্রষ্টা করে ছাড়তে হবে। যেন তাদের ঔরসে ভালো মানুষের জন্ম না হয়। পরবর্তী প্রজন্ম যেন বদদ্বীন ও বেহায়া হয়। তাই তারা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে মহিলাদেরকে সুদ দেয়া আরম্ভ করে। এভাবে ঘরেঘরে ঢুকে যায় সুদ; সর্বসাধারণ মহিলারা হারামে জড়িয়ে যায়।

সুদের ভয়াবহতা উল্লোখ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَكَاتِبَهُ

সুদদাতা, গ্রহীতা, সুদের সাক্ষী ও লেখকের ওপর আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করেছেন।

(সূত্র: জীবন গড়ার পাথেয়)

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.